ক্যামেরায় স্যামসাংকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ভিভোর নতুন ফোন
স্মার্টফোনের ক্যামেরায় স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে ভিভোর নতুন এক্স৫০০ প্রো ম্যাক্স। বিশেষ করে টেলিফটো ক্যামেরার বড় সেন্সর ও ৩.৫ গুণ অপটিক্যাল জুমের কারণে ক্যামেরার সক্ষমতায় ফোনটি এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই ফোনের ক্যামেরার পার্থক্য যাচাই করতে বিভিন্ন পরিবেশে কয়েক ডজন ছবি তুলে তুলনা করেছেন প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ফোনঅ্যারেনার পর্যালোচক ভিক্টর হ্রিস্তভ।
ফোনঅ্যারেনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় ক্যামেরা ফোনগুলোর ক্যামেরা প্রযুক্তিতে উন্নয়নের গতি কিছুটা কমেছে। গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রায় স্যামসাং দীর্ঘদিন ধরে ৩ গুণ জুমের টেলিফটো ক্যামেরা হালনাগাদ করেনি। এ ছাড়া ফোনটির ৫ গুণ জুমের পেরিস্কোপ ক্যামেরাতেও তুলনামূলক ছোট সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতারা ক্যামেরা প্রযুক্তিতে বড় ধরনের উন্নতি আনছে। চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্যামেরা ফোন হতে পারে ভিভো এক্স৫০০ প্রো ম্যাক্স।
ক্যামেরার কারিগরি বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য
ভিভো এক্স৫০০ প্রো ম্যাক্স ও গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রার মূল ক্যামেরায় প্রায় একই আকারের সেন্সর রয়েছে। তবে টেলিফটো ক্যামেরার ক্ষেত্রে দুই ফোনের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়।
ভিভো এক্স৫০০ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা, যাতে সনি এলওয়াইটি-এল৯১০ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরাটিতে এলওএফআইসি প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস), লেজার অটোফোকাস ও ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস (পিডিএএফ) সুবিধা রয়েছে। এর অ্যাপারচার এফ/১.৬, ফোকাল দৈর্ঘ্য ২৪ মিলিমিটার এবং সেন্সরের আকার ১/১.২৮ ইঞ্চি।
অন্যদিকে গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা। এতে স্যামসাংয়ের আইসোসেল এইচপি২ সেন্সর, ওআইএস ও পিডিএএফ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরাটির অ্যাপারচার এফ/১.৪, ফোকাল দৈর্ঘ্য ২৩ মিলিমিটার এবং সেন্সরের আকার ১/১.৩ ইঞ্চি। এর প্রতিটি পিক্সেলের আকার ০.৬ মাইক্রোমিটার।
আলট্রাওয়াইড ক্যামেরায় দুই ফোনেই ৫০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর রয়েছে। ভিভোতে স্যামসাং আইসোসেল জেএন৫ সেন্সর, এফ/২.০ অ্যাপারচার, ১৫ মিলিমিটার ফোকাল দৈর্ঘ্য ও অটোফোকাস সুবিধা রয়েছে। সেন্সরের আকার ১/২.৭৫ ইঞ্চি। গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রায় রয়েছে আইসোসেল জেএন৩ সেন্সর, এফ/১.৯ অ্যাপারচার ও পিডিএএফ সুবিধা। এর সেন্সরের আকার ১/২.৫ ইঞ্চি এবং পিক্সেলের আকার ০.৭ মাইক্রোমিটার।
| ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য | ভিভো এক্স৫০০ প্রো ম্যাক্স | স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রা |
|---|---|---|
| মূল ক্যামেরা | ৫০ মেগাপিক্সেল | ২০০ মেগাপিক্সেল |
| সেন্সর | সনি এলওয়াইটি-এল৯১০ | স্যামসাং আইসোসেল এইচপি২ |
| অ্যাপারচার | এফ/১.৬ | এফ/১.৪ |
| ফোকাল দৈর্ঘ্য | ২৪ মিমি | ২৩ মিমি |
| সেন্সরের আকার | ১/১.২৮ ইঞ্চি | ১/১.৩ ইঞ্চি |
| পিক্সেলের আকার | উল্লেখ নেই | ০.৬ মাইক্রোমিটার |
| আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা | ৫০ মেগাপিক্সেল | ৫০ মেগাপিক্সেল |
| সেন্সর | স্যামসাং আইসোসেল জেএন৫ | স্যামসাং আইসোসেল জেএন৩ |
| অ্যাপারচার | এফ/২.০ | এফ/১.৯ |
| ফোকাল দৈর্ঘ্য | ১৫ মিমি | উল্লেখ নেই |
| সেন্সরের আকার | ১/২.৭৫ ইঞ্চি | ১/২.৫ ইঞ্চি |
| পিক্সেলের আকার | উল্লেখ নেই | ০.৭ মাইক্রোমিটার |
| টেলিফটো ক্যামেরা | ২০০ মেগাপিক্সেল | ১০ মেগাপিক্সেল |
| সেন্সর | স্যামসাং আইসোসেল এইচপি৯ | সনি আইএমএক্স৭৫৪ |
| অপটিক্যাল জুম | ৩.৫ গুণ | ৩ গুণ |
| অ্যাপারচার | এফ/২.৭ | এফ/২.৪ |
| ফোকাল দৈর্ঘ্য | ৮৫ মিমি | উল্লেখ নেই |
| সেন্সরের আকার | ১/১.৪ ইঞ্চি | ১/৩.৯৪ ইঞ্চি |
| পিক্সেলের আকার | ০.৫৬ মাইক্রোমিটার | ১.১২ মাইক্রোমিটার |
| পেরিস্কোপ ক্যামেরা | আলাদা ক্যামেরা নেই | ৫০ মেগাপিক্সেল |
| সেন্সর | প্রযোজ্য নয় | সনি আইএমএক্স৮৫৪ |
| অপটিক্যাল জুম | প্রযোজ্য নয় | ৫ গুণ |
| অ্যাপারচার | প্রযোজ্য নয় | এফ/২.৯ |
| ফোকাল দৈর্ঘ্য | প্রযোজ্য নয় | ১১৫ মিমি |
| সেন্সরের আকার | প্রযোজ্য নয় | ১/২.৫২ ইঞ্চি |
| পিক্সেলের আকার | প্রযোজ্য নয় | ০.৭ মাইক্রোমিটার |
| সামনের ক্যামেরা | ৫০ মেগাপিক্সেল | ১২ মেগাপিক্সেল |
| বিশেষ সুবিধা | উল্লেখ নেই | পিডিএএফ ও এইচডিআর |
টেলিফটো ক্যামেরায় ভিভোর ব্যবধান আরও স্পষ্ট। ফোনটিতে ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে স্যামসাং আইসোসেল এইচপি৯ সেন্সর, ৩.৫ গুণ অপটিক্যাল জুম, ওআইএস ও পিডিএএফ সুবিধা রয়েছে। ক্যামেরাটির অ্যাপারচার এফ/২.৭, ফোকাল দৈর্ঘ্য ৮৫ মিলিমিটার এবং সেন্সরের আকার ১/১.৪ ইঞ্চি। পিক্সেলের আকার ০.৫৬ মাইক্রোমিটার।
অন্যদিকে গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রায় দুটি টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। এর একটি ১০ মেগাপিক্সেলের, যাতে সনি আইএমএক্স৭৫৪ সেন্সর, ৩ গুণ অপটিক্যাল জুম, ওআইএস ও পিডিএএফ সুবিধা রয়েছে। এর অ্যাপারচার এফ/২.৪, সেন্সরের আকার ১/৩.৯৪ ইঞ্চি এবং পিক্সেলের আকার ১.১২ মাইক্রোমিটার। দ্বিতীয়টি ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ ক্যামেরা। এতে সনি আইএমএক্স৮৫৪ সেন্সর, ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম, ওআইএস ও পিডিএএফ সুবিধা রয়েছে। এর অ্যাপারচার এফ/২.৯, ফোকাল দৈর্ঘ্য ১১৫ মিলিমিটার, সেন্সরের আকার ১/২.৫২ ইঞ্চি এবং পিক্সেলের আকার ০.৭ মাইক্রোমিটার।
সেলফি তোলার জন্য ভিভো এক্স৫০০ প্রো ম্যাক্সে ৫০ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা রয়েছে। গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা, যাতে পিডিএএফ ও এইচডিআর সুবিধা রয়েছে।
দৈনন্দিন ছবি তোলায় কোনটি সুবিধাজনক
ফোনঅ্যারেনার পর্যালোচকের মতে, ভিভোর টেলিফটো ক্যামেরার বড় সেন্সর ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রায় দুটি টেলিফটো ক্যামেরা থাকলেও উভয়টির সেন্সরই তুলনামূলক ছোট। এ কারণে ভিভোর ক্যামেরা ব্যবস্থাকে বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন তিনি।
এ ছাড়া ভিভোর ৩.৫ গুণ অপটিক্যাল জুম দৈনন্দিন ছবি তোলার জন্য গ্যালাক্সির ৫ গুণ পেরিস্কোপ জুমের চেয়ে বেশি ব্যবহারিক হতে পারে। কারণ, সাধারণ ছবি তোলার সময় ৫ গুণ জুম অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দূরের দৃশ্য ধারণ করে।
দুই ফোনের ক্যামেরার প্রকৃত পার্থক্য তুলে ধরতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তোলা নমুনা ছবিও প্রকাশ করেছে ফোনঅ্যারেনা। ছবিগুলো দেখে ব্যবহারকারীরা দুই ফোনের ক্যামেরার ফলাফল তুলনা করতে পারবেন।