দৈনন্দিন লেনদেন সহজ করতে ‘মুক্ত পে’ চালু করল বাংলালিংক
দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন সহজ ও দ্রুত করতে ‘মুক্ত পে’ নামে ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বাংলালিংক। এ সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠানো, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ এবং যেকোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বরে রিচার্জ করা যাবে। উদ্বোধনী অফারের আওতায় প্রথম তিন মাস টাকা পাঠানো ও বিল পরিশোধে কোনো ফি দিতে হবে না।
আজ (৪ নভেম্বর) ঢাকায় প্ল্যাটফর্মটি চালুর ঘোষণা দেয় বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মুক্ত’ শব্দের অর্থ স্বাধীন। গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই এ সেবা চালু করা হয়েছে।
গুগল প্লে স্টোর ও আইওএস অ্যাপ স্টোর থেকে ‘মুক্ত পে’ অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধনের পর যেকোনো অপারেটরের গ্রাহক এটি ব্যবহার করতে পারবেন। আর বাংলালিংক গ্রাহকেরা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই সাধারণ মোবাইল ফোন থেকে *৫২৫# ডায়াল করে সেবাটি নিতে পারবেন।
অ্যাপটির মাধ্যমে টাকা পাঠানো, বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ ও সব অপারেটরের নম্বরে রিচার্জের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও কার্ড থেকে ওয়ালেটে টাকা যোগ করা যাবে। এ ছাড়া বাংলালিংকের অন্যান্য সেবাও পাওয়া যাবে এতে।
উদ্বোধনী অফারের অংশ হিসেবে প্রথম তিন মাস ওয়ালেট থেকে ওয়ালেটে টাকা পাঠানো এবং বিল পরিশোধে কোনো মাশুল নেওয়া হবে না। এ ছাড়া বাংলালিংক নম্বরে প্রথম তিনবার রিচার্জ করলে বোনাস পাবেন গ্রাহকেরা।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, ‘মুক্ত পে’র মাধ্যমে সংযোগ সেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনেও যুক্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্মার্টফোন ও সাধারণ ফোন, দুই ধরনের ব্যবহারকারীর জন্যই সেবাটি চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেন সহজ করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ‘মুক্ত পে’র আলাদা একটি অ্যাপও রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিবন্ধন, গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং লেনদেনের হিসাব দেখতে পারবেন। এ ছাড়া জাতীয় কিউআর পেমেন্টব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ যুক্ত করার কাজ চলছে। এটি চালু হলে গ্রাহকেরা বাংলা কিউআর সমর্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ‘মুক্ত পে’ ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন।
বাংলালিংকের প্রধান আর্থিক প্রযুক্তি কর্মকর্তা দিমিত্রি কাশতানভ বলেন, গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে সংযোগ সেবার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনেও যুক্ত হতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। ‘মুক্ত পে’র মাধ্যমে প্রতিদিনের লেনদেন আরও দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য করাই তাদের লক্ষ্য।
‘মুক্ত পে’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম জাকারিয়া বলেন, শুরু থেকেই সেবাটিকে দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি সব মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা ছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশে বাংলালিংকের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। অন্যদিকে পাকিস্তান, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানে ভিওনের আর্থিক সেবা প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্মিলিত গ্রাহকসংখ্যা ৫ কোটি ৯০ লাখ।
বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও ‘মুক্ত পে’ চালু করেছে ভিওন। এ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।